Thursday, 5 September 2013

এক ধুসর প্রান্তরে

কোন এক ধামে নাকি শান্তি থাকে,
বানপ্রস্থও নাকি তার আদি বাসিন্দা
সারা বেলা জুড়ে তাই মিছিল চলেছে সেই ধামের দিকে।
সহস্র বৃদ্ধ বৃদ্ধার মাঝে আমি একলা পড়ে গেছি।
যেতে চাইছিলাম না, তবু
একটা বিশাল ধুসর প্রান্তরে চলে এলাম
দূরে প্রখর তেজ ঝলসে দিল আমায়।
আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

জলীয় স্তব্দতা ভেঙে উন্মত্ত ঢেউ ছুঁয়ে যাচ্ছে দুই পা,
চারপাশে শঙ্খচিলের দল, তাকিয়ে আছে আমার দিকে
হাসছে, উড়ছে, যাচ্ছে, ফিরে আসছে.. আবার হাসছে...
সকাল থেকে রাত্রি নামে সকলের আড়ালে, একলাই
ধুসর প্রান্তর আরও ধুসর হতেই থাকে...
ভীষণ অসহায় লাগে তখন, একাকীত্বের ভিড়ে,
ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আস্তে থাকে, মনে...
আমি আবার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

সেই প্রস্তর যুগ থেকে পড়ে আছি ফুটপাথে, 
যেখানে খেলা করে বিপন্ন শৈশব, অন্ধ মাতৃত্ব আর হারহাভাতে..
একদলা থুতু জমে থাকতো গাড়ির জানলাদের ওপারে
যেগুলো টাকার রুপ ধরে খেলা করত হাতে হাতে।
আমার দুম করে হাসি পেল, একাকীত্বের শান্তিধামের কথায়
হাসতে গিয়ে দেখি, একটা ন্যাংটো ছেলে ফিক ফিক করছে
ভালো করে তাকিয়ে দেখি, আরে...! ওটা আমি যে... 
ধুসর প্রান্তরে চোখ বন্ধ করেই রইলাম।

এসবই মৃত্যুর কোলাজ হতে চলেছে।
কোন এক ধুসর প্রান্তরের বুকে।



No comments:

Post a Comment