Monday, 23 September 2013

বিবর্ণতার কান্না


বন খুঁজতে হারিয়ে গিয়েছিলাম।
হ্যা... নিছক-ই বন।
বিভুতিভূষণ বা সঞ্জীবচন্দ্রের লেখামতো।
সবুজের রেকাবি জুড়ে গাছ, ঘাস, প্রজাপতি
কয়েক টুকরো শৈশব, সূর্যালোকের মিষ্টতায় 
পেরিয়ে গিয়েছে লতা গুল্মের কচি ডাঁটারা।
শাখা প্রশাখায় স্তব্দ হয়েছে বয়ঃসন্ধি।
কিমবা, যখন এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
ইট, বালি সুরকির পোশাক ছেড়ে,
আমাকে প্রাচীন বট-অশ্বত্থের ভিড়ে ঠেলে দিয়েছে।
ওরা... আসলে উপড়ে দিতে চেয়েছে..
আগাছার মতো...
আমাকে...  



Friday, 6 September 2013

একের জন্যে হাজার কবিতা


একটা সাদা কাগজ নাও।
তাতে দাগ কাটতে থাকো।
সোজা, লম্বা, কোণাকুণি, ট্যারা, ব্যাকা,
মনের মত করে, নিয়ম না মেনে।
এবার অক্ষর, বর্ণ, শব্দদেরকে হাঁক দাও,
নিজের মত করে।
সেই লাইনগুলো বরাবর, তাদের ছড়িয়ে দাও।
( অগোছালো থাকুক, ক্ষতি নেই )
তারপর
কাগজটাকে একবার আলোতে নিয়ে যাও,
দেখবে, প্রতিবাদ, ধর্ষণ, মৃত্যু এগুলো,
ফুটে উঠেছে, 
( রক্তাক্ত নয়, তোমার কলমের কালির রঙে )
আবার অন্ধকারে নিয়ে চলে এসো,
দেখবে, প্রেম, শৈশব, আবেগ, সুখ এসব
ফুটে উঠেছে, 
(কলমের কালির রঙে নয়, তোমার মনের রঙে )

ঘটনাক্রমে, ওই দাগগুলোকেই তোমরা কবিতা বলে চালাও।
চটকদারিতার জন্যে, 
সনেট, গদ্য, অন্তমিল, এসব শ্রেণীবিন্যাস কর।
মনে ধরলে কয়েকটাকে,
গুছিয়ে, ছাপিয়ে বাজার কর।
আর, বাকি দাগগুলোর জন্যে 
বরাদ্দ হয় সে সস্তার চিতা।
প্রত্যেকবার তোমরা সহমরণে যাও ( ঠিকই ! )
( হাসতে হাসতে ফিরেও আসো, কেমনে জানিনা!)
নির্বিবাদেই তাই ছাই গুলো পায়ে মাখো
আর একটা কবিতার জন্যে শহিদ হয়, 
হাজারো অসমাপ্ত কবিতা।

(( সেই সমস্ত কবিতাদের উদ্দেশ্যে লেখা, যারা, পাতার ভাঁজে, ডায়েরীর খাঁজে, জমা হতে হতে মারা গেছে, অকালে ))

Thursday, 5 September 2013

দুর্গা, ভাই ও তার রেল


সুগন্ধ ভেসে আসে,
কনকচূড়, নতুন গুড়, খই মুড়কি।
রেললাইনের পাশ দিয়ে কাশবন,
শুকিয়ে গিয়েছে এই তো সবে।
ওই যে,
রেলগাড়ী আসছে, আওয়াজ দিতে দিতে।
দুর্গারা আজও ভাইকে নিয়ে ছুটছে,
দুটো পয়সা পাওয়ার আশায়।
ওদিকে...
সুগন্ধটা বাবুদের কেনা হয়ে গেছে।
দরাদরি-তে, সস্তায়।


এক ধুসর প্রান্তরে

কোন এক ধামে নাকি শান্তি থাকে,
বানপ্রস্থও নাকি তার আদি বাসিন্দা
সারা বেলা জুড়ে তাই মিছিল চলেছে সেই ধামের দিকে।
সহস্র বৃদ্ধ বৃদ্ধার মাঝে আমি একলা পড়ে গেছি।
যেতে চাইছিলাম না, তবু
একটা বিশাল ধুসর প্রান্তরে চলে এলাম
দূরে প্রখর তেজ ঝলসে দিল আমায়।
আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

জলীয় স্তব্দতা ভেঙে উন্মত্ত ঢেউ ছুঁয়ে যাচ্ছে দুই পা,
চারপাশে শঙ্খচিলের দল, তাকিয়ে আছে আমার দিকে
হাসছে, উড়ছে, যাচ্ছে, ফিরে আসছে.. আবার হাসছে...
সকাল থেকে রাত্রি নামে সকলের আড়ালে, একলাই
ধুসর প্রান্তর আরও ধুসর হতেই থাকে...
ভীষণ অসহায় লাগে তখন, একাকীত্বের ভিড়ে,
ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আস্তে থাকে, মনে...
আমি আবার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

সেই প্রস্তর যুগ থেকে পড়ে আছি ফুটপাথে, 
যেখানে খেলা করে বিপন্ন শৈশব, অন্ধ মাতৃত্ব আর হারহাভাতে..
একদলা থুতু জমে থাকতো গাড়ির জানলাদের ওপারে
যেগুলো টাকার রুপ ধরে খেলা করত হাতে হাতে।
আমার দুম করে হাসি পেল, একাকীত্বের শান্তিধামের কথায়
হাসতে গিয়ে দেখি, একটা ন্যাংটো ছেলে ফিক ফিক করছে
ভালো করে তাকিয়ে দেখি, আরে...! ওটা আমি যে... 
ধুসর প্রান্তরে চোখ বন্ধ করেই রইলাম।

এসবই মৃত্যুর কোলাজ হতে চলেছে।
কোন এক ধুসর প্রান্তরের বুকে।



: সাতখণ্ড কবিতা ও একটি প্রশ্ন :


১. বেগুনি প্রজাপতি-র মৃত্যু একাকীত্বের বিষে
২. নীলচে মিথুন, কৌমার্য যে নগ্ন কামাবেশে
৩. আকাশী মেঘ, স্তাবক বর্ষা, ঈশ্বর পরবাসী
৪. সবুজ স্বপ্ন মাটি দেখবে! বি-জ্ঞানের নিঠুর হাসি  
৫. হরিদ্রা খেত, আলোক বৃত্তে নকশী-কাঁথা জাল 
৬. কমলা পলাশ, নবকল্লোলে রঙ্গিন কার্নিভাল
৭. লালচে জন্ম, জরায়ুগাথা বিপ্লব কবিতায়
প্রশ্ন : বর্ণহীন হয়েও শিশু কিভাবে বেঁচে যায় ?


ক্যামাফ্লোজ

একের পর এক পচছে শরীর
কালো রক্তে মাখা শরীর
কলমের সুরক্ষাবলয় ভেঙে গেছে বলে
কবিরা আগেভাগেই আত্মহত্যা করেছে
আমিও তাদের সাথে নিঃস্পন্দে প্রবেশ করেছি
বেয়োনেটের ঘুমপাড়ানী গায়কেরা নিথর শরীরগুলো মাড়িয়ে
থুতু ফেলতে ফেলতে চলে গেল
তারপর বোধহয় অনেক কাল বাদে
একটা ভাঙা শুকনো রক্তমাখা কলম কুড়িয়ে নিয়ে
লিখে ফেললাম কবিতাটা
ভাগ্যিস আমার মৃতদেহটা ক্যামাফ্লোজ ছিল


কবির প্রেমের কবিতা

একমুঠো ফুল ছড়িয়ে মনে
মন ভর্তি প্রেম।
প্রেম এঁকেছে শঙ্খশরীর
শিশিরস্নাত হেম।
শরীরখাঁজে লুকিয়ে ছিল
ঘুমন্ত যেইজন।
অতর্কিতে হারাই প্রেমে
প্রেম ভর্তি মন।
চারপাশে সে, মাতাল আমি
স্বপ্ন মৌতাতে।
মায়াজালিকা টানছে, আমি
হারাচ্ছি তার সাথে।
তোমার বুকে শব্দ সাজিয়ে
রেখেছি তো যত্নে।
পাঠক তুমি কবিতা এঁকো
নিজেরই স্বপ্নে।
কবি প্রেমালাপে ব্যাস্ত
গোপন এক পাতায়।
স্পর্শে জাগে বিস্ময়তা,
আদিম অধ্যায়।
বসন্ত আজ ধরা দিয়েছে,
কবি যে মশগুল।
কলমকে সে প্রেম সঁপেছে,
সাক্ষী মুঠো ফুল।