Saturday, 9 November 2013

উৎসব

গোল গোল আলো.. ঘুরতে ঘুরতে চলেছে পথে..
রোশনাই.. আনন্দ..
ভিড়ে ঠাসা শহর ডেকে বলল...
এসো বন্ধু... গা ভাসাও... 
এসব আয়োজন তোমাদের জন্যেই..
আমি মিশে গেলাম লোকারণ্যে...
ঠাকুরের মুখ.. অসুরের মুখ...
বুদ্বুদের মুখ... গণিকার মুখ...
আর তার ভিড়ে, মুখোশ আর মুখোশ..
আজকাল..
কাঁসর ঘণ্টারাও জানে লাল-দাগের মাহাত্ম্য..
ইমেল থেকে ফিমেল..
তাদের পেরিয়ে, হিমেল বাতাসে যখন
গায়ে একটা আমেজ আসে, ফুর্তি আসে..!
হটাত পরিকল্পনামাফিক উড়ে আসে একটা ঠোঙা,
যেটায় ধর্ষিতা মেয়েটার মুখটা ঘষে দেওয়া থাকে, ছবিতে..

ক্ষমা করবেন, পাঠক...
অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে ফেললাম..
আসলে... এসবই উৎসবের অঙ্গ..
ভিন্ন মতে.. ভিন্ন আদর্শে...


Tuesday, 1 October 2013

প্রেম করব, না, করব না



প্রেম করা তো খারাপই নয়, প্রেম করা কি বাজে ?
এসব কথা শুরুর দিকেই, বলা বোধহয় সাজে।
ক্যাডবেরিতে মন গলবে ? টেডিও নাকি চাই!
কি কুক্ষনে ভুলবশত বলেছিলাম হাই!
টাকা বোধহয় মুড়ি-মুড়কি, দরাজ ক্রেডিট কার্ড।
একটা চুমুও তবেই পাব, ভালোবাসাটা ছাড়!     
আমার বুকে দুরুদুরু, তার মনেতে কি?
মনে হয়, আমি এইবারেতেই গোলাপ কিনে দি।
কি দিলে সে সুখী হবে, কি দিলে সে হাঁসে ?
প্রেম করাটা বড্ড কঠিন, প্রেম করা কি সাজে ?




Monday, 23 September 2013

বিবর্ণতার কান্না


বন খুঁজতে হারিয়ে গিয়েছিলাম।
হ্যা... নিছক-ই বন।
বিভুতিভূষণ বা সঞ্জীবচন্দ্রের লেখামতো।
সবুজের রেকাবি জুড়ে গাছ, ঘাস, প্রজাপতি
কয়েক টুকরো শৈশব, সূর্যালোকের মিষ্টতায় 
পেরিয়ে গিয়েছে লতা গুল্মের কচি ডাঁটারা।
শাখা প্রশাখায় স্তব্দ হয়েছে বয়ঃসন্ধি।
কিমবা, যখন এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
ইট, বালি সুরকির পোশাক ছেড়ে,
আমাকে প্রাচীন বট-অশ্বত্থের ভিড়ে ঠেলে দিয়েছে।
ওরা... আসলে উপড়ে দিতে চেয়েছে..
আগাছার মতো...
আমাকে...  



Friday, 6 September 2013

একের জন্যে হাজার কবিতা


একটা সাদা কাগজ নাও।
তাতে দাগ কাটতে থাকো।
সোজা, লম্বা, কোণাকুণি, ট্যারা, ব্যাকা,
মনের মত করে, নিয়ম না মেনে।
এবার অক্ষর, বর্ণ, শব্দদেরকে হাঁক দাও,
নিজের মত করে।
সেই লাইনগুলো বরাবর, তাদের ছড়িয়ে দাও।
( অগোছালো থাকুক, ক্ষতি নেই )
তারপর
কাগজটাকে একবার আলোতে নিয়ে যাও,
দেখবে, প্রতিবাদ, ধর্ষণ, মৃত্যু এগুলো,
ফুটে উঠেছে, 
( রক্তাক্ত নয়, তোমার কলমের কালির রঙে )
আবার অন্ধকারে নিয়ে চলে এসো,
দেখবে, প্রেম, শৈশব, আবেগ, সুখ এসব
ফুটে উঠেছে, 
(কলমের কালির রঙে নয়, তোমার মনের রঙে )

ঘটনাক্রমে, ওই দাগগুলোকেই তোমরা কবিতা বলে চালাও।
চটকদারিতার জন্যে, 
সনেট, গদ্য, অন্তমিল, এসব শ্রেণীবিন্যাস কর।
মনে ধরলে কয়েকটাকে,
গুছিয়ে, ছাপিয়ে বাজার কর।
আর, বাকি দাগগুলোর জন্যে 
বরাদ্দ হয় সে সস্তার চিতা।
প্রত্যেকবার তোমরা সহমরণে যাও ( ঠিকই ! )
( হাসতে হাসতে ফিরেও আসো, কেমনে জানিনা!)
নির্বিবাদেই তাই ছাই গুলো পায়ে মাখো
আর একটা কবিতার জন্যে শহিদ হয়, 
হাজারো অসমাপ্ত কবিতা।

(( সেই সমস্ত কবিতাদের উদ্দেশ্যে লেখা, যারা, পাতার ভাঁজে, ডায়েরীর খাঁজে, জমা হতে হতে মারা গেছে, অকালে ))

Thursday, 5 September 2013

দুর্গা, ভাই ও তার রেল


সুগন্ধ ভেসে আসে,
কনকচূড়, নতুন গুড়, খই মুড়কি।
রেললাইনের পাশ দিয়ে কাশবন,
শুকিয়ে গিয়েছে এই তো সবে।
ওই যে,
রেলগাড়ী আসছে, আওয়াজ দিতে দিতে।
দুর্গারা আজও ভাইকে নিয়ে ছুটছে,
দুটো পয়সা পাওয়ার আশায়।
ওদিকে...
সুগন্ধটা বাবুদের কেনা হয়ে গেছে।
দরাদরি-তে, সস্তায়।


এক ধুসর প্রান্তরে

কোন এক ধামে নাকি শান্তি থাকে,
বানপ্রস্থও নাকি তার আদি বাসিন্দা
সারা বেলা জুড়ে তাই মিছিল চলেছে সেই ধামের দিকে।
সহস্র বৃদ্ধ বৃদ্ধার মাঝে আমি একলা পড়ে গেছি।
যেতে চাইছিলাম না, তবু
একটা বিশাল ধুসর প্রান্তরে চলে এলাম
দূরে প্রখর তেজ ঝলসে দিল আমায়।
আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

জলীয় স্তব্দতা ভেঙে উন্মত্ত ঢেউ ছুঁয়ে যাচ্ছে দুই পা,
চারপাশে শঙ্খচিলের দল, তাকিয়ে আছে আমার দিকে
হাসছে, উড়ছে, যাচ্ছে, ফিরে আসছে.. আবার হাসছে...
সকাল থেকে রাত্রি নামে সকলের আড়ালে, একলাই
ধুসর প্রান্তর আরও ধুসর হতেই থাকে...
ভীষণ অসহায় লাগে তখন, একাকীত্বের ভিড়ে,
ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আস্তে থাকে, মনে...
আমি আবার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

সেই প্রস্তর যুগ থেকে পড়ে আছি ফুটপাথে, 
যেখানে খেলা করে বিপন্ন শৈশব, অন্ধ মাতৃত্ব আর হারহাভাতে..
একদলা থুতু জমে থাকতো গাড়ির জানলাদের ওপারে
যেগুলো টাকার রুপ ধরে খেলা করত হাতে হাতে।
আমার দুম করে হাসি পেল, একাকীত্বের শান্তিধামের কথায়
হাসতে গিয়ে দেখি, একটা ন্যাংটো ছেলে ফিক ফিক করছে
ভালো করে তাকিয়ে দেখি, আরে...! ওটা আমি যে... 
ধুসর প্রান্তরে চোখ বন্ধ করেই রইলাম।

এসবই মৃত্যুর কোলাজ হতে চলেছে।
কোন এক ধুসর প্রান্তরের বুকে।



: সাতখণ্ড কবিতা ও একটি প্রশ্ন :


১. বেগুনি প্রজাপতি-র মৃত্যু একাকীত্বের বিষে
২. নীলচে মিথুন, কৌমার্য যে নগ্ন কামাবেশে
৩. আকাশী মেঘ, স্তাবক বর্ষা, ঈশ্বর পরবাসী
৪. সবুজ স্বপ্ন মাটি দেখবে! বি-জ্ঞানের নিঠুর হাসি  
৫. হরিদ্রা খেত, আলোক বৃত্তে নকশী-কাঁথা জাল 
৬. কমলা পলাশ, নবকল্লোলে রঙ্গিন কার্নিভাল
৭. লালচে জন্ম, জরায়ুগাথা বিপ্লব কবিতায়
প্রশ্ন : বর্ণহীন হয়েও শিশু কিভাবে বেঁচে যায় ?